আমাদের ভুল বুঝাবুঝিতে ফ্যাসিস্টেরা অট্টহাসি দিচ্ছে : বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ
শাহাদাৎ বাবু – নোয়াখালী সংবাদদাতা
নোয়াখালীর কবির হাট উপজেলায় জামায়াত শিবিরের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের বাড়িতে দেখতে গেলেন বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ।
নেতাকর্মীদের দেখার পর বলেন
“যারা আমাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন কোন সমস্যা নাই, কিন্তু আমরা প্রতিযোগিতা করতে চাই খুবই শান্তিপূর্ণভাবে” আমি নোয়াখালী জেলা জামায়াতে আমিরকে বলেছি কোন ছোটখাটো সমস্যা থাকলে আমরা নিজেরা আলোচনা করে শেষ করবো। কারণ “ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমাদের ভুল বোঝাবুঝিতে ফ্যাসিস্টেরা অট্টহাসি দিচ্ছে” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও নোয়াখালী-০৫ কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের নেয়াজপুর ইউনিয়নে মসজিদে জামায়াত শিবিরের দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে দলীয় আহত নেতাকর্মীদের বাড়িতে তাদেরকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জননেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। এ সময় তিনি বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করবো আপনারা মসজিদে বসে রাজনীতি করা থেকে বিরত থাকুন, মসজিদকে আপনারা দুনিয়াবী জায়গা বানাবেন না। আপনি যদি মুসলমান হন, আপনার মধ্যে সে ভয় যদি থাকে, তাহলে আমরা আশা করব প্রার্থনার জায়গাটাকে, আল্লাহর কাছে সেজদার জায়গাটাকে আমরা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এবং রাজনীতির ক্লাব বানাবো না।
তিনি বলেন, হাসিনার পতনের পর দেশে একটা ভালো সময় এসেছে। কষ্টার্জিত গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমরা সকলেই অনেক কষ্ট করেছি, আমাদের অনেকে শহীদ হয়েছে। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী জেল খেটেছে। আমরা যারা গত ১৭ বছর একসাথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, তারা যদি এখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করি, তাহলে ফ্যাসিস্টেরা সুবিধা নিবে।
বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ আরো বলেন, আমরা বলে দিয়েছি, আমাদের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করবে, সংযম দেখাবে। আমাদের নেতাকর্মীরা কাউকে আক্রমন করবে না। তবে আমাদের নিজেদেরকে বাঁচানোর অধিকার আমাদের আছে, আমাদের উপর কেউ জুলুম করতে আসলে তা প্রতিহত করার অধিকার আমাদের আছে। এই অধিকার ধর্মই আমাদেরকে দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূলের সব নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার অর্জনে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত আছে, যতদিন পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হবে, ভোটাধিকার অর্জিত না হবে, আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করবো। জনগণ যদি আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, আমরা জনগণের অধিকার রক্ষায় এদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।
এরআগে, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ১৯ অক্টোবরের ঘটনায় আহত নেয়াজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফারুক, সাধারণ সম্পাদক রায়হান ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈনকে দেখতে তাদের বাড়িতে যান, খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর রোববার স্থানীয় মসজিদে জামায়াত শিবির দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজার জামে মসজিদে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
Leave a Reply