নোয়াখালী সুবর্ণচরে মা কে খন্ড করে হত্যায় জড়িত ছেলে সহ গ্রেপ্তার ৫

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০
  • 377 পাঠক

নোয়াখালী প্রতিনিধি-
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বিল থেকে গত ৭ অক্টোবর নিহত নূরজাহান (৫৮) নামে এক নারীর লাশের পাঁচ খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থ-সম্পত্তির জন্য ঐ নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। এতে নিহতের ছেলে সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার তার ছেলে হুমায়ন কবির হুমাকে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে হুমার বন্ধু নীরব (২৬) প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলাম (৩৮), হুমার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন (২৬) ও মামাতো বোনের স্বামী সুমনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও মৃতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নুরজাহান হত্যা ও তার রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন হত্যা কাণ্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত ব্রিফিং করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের মাঝের বিভিন্ন ক্ষেত থেকে নূরজাহানের লাশের পাঁচটি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার ছেলে হুমায়ন কবির হুমা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। একাধিক টিম হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ কারীদের চিহ্নিত করা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে সক্রিয় হয়।জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, অভিযান কালে সন্দেহজনকভাবে মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির হুমার বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলামকে আটক করা হয় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও মৃতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়। দুই আসামী স্বেচ্ছায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়। এর ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা কারী ও মামলার বাদি হুমায়ন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ন কবির হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন ও মামাতো বোনের স্বামী সুমনের তথ্য জানালে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।
এসপি আলমগীর জানান, হুমায়ন কবিরের সৎ ভাই বেলাল নিজের গরু, পুকুরের মাছ ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসার পুঁজির জন্য মা নূরজাহানকে জিম্মাদার রেখে চার লাখ টাকা সুদ নেন। ওই টাকা পরিশোধ করা অবস্থায় দেড় বছর আগে একটি ইটভাটায় মারা যান তিনি। বেলালের মৃত্যুর পর পাওনাদাররা টাকার জন্য হুমায়ন ও তার মাকে চাপ দিতে থাকে। হুমায়ন চেয়েছিল মৃত বেলাল ও তার মায়ের নামে থাকা জায়গা জমি বিক্রি করে ওই টাকা শোধ করতে। কিন্তু নূরজাহান তাকেই নিজের জমি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করতে বলেন। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো।এর মধ্যে হুমায়নের মামা দুলাল মাঝির কাছ থেকে ৬২ হাজার ৫শ টাকা পাওনা ছিলেন নূরজাহান। তিনি প্রায়ই টাকা ফেরতের জন্য দুলালকে জোর করতেন। এসব বিষয় নিয়ে নূর জাহানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল দুলালের ছেলে কালাম ও মেয়ের জামাই সুমন। এর জের ধরেই হুমায়ন, কালাম, সুমন, প্রতিবেশি ইসমাইল, হামিদ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী দেনা মুক্ত হতে ওইদিন তারা নূরজাহানকে ঘুমের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে লাশটি পাওনাদারদের জমির পাশে নিয়ে বটি, চাপাতি ও কোদাল দিয়ে পাঁচ খণ্ড করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়। ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে শেয়ার করুন...

এ বিভাগের আরো খবর....

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *